What is Google Adsense ? Google Adsense Guide Line 2020 গুগল অ্যাডসেন্স কি? গুগল অ্যাডসেন্স কিভাবে শুরু করবেন? কিভাবে আয় করবেন?

What is Google Adsense ? গুগল অ্যাডসেন্স কি? গুগল অ্যাডসেন্স কিভাবে শুরু করবেন? কিভাবে আয় করবেন?




এই মুহূর্তে হয়ত এমন অনেকেই আছেন যারা ইন্টারনেট থেকে আয় করতে চান। আবার অনেকেই অ্যাডসেন্স এর নাম শুনেছেন কিন্তু বিস্তারিত জানেন না।তাদের জন্য আমার এই পোস্ট।

আমরা আমাদের প্রতিদিনের বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ওয়েব সাইট এ ভিজিট করে থাকি , সে সময় দেখা যায় সেই সব সাইটের কোন কোন টিতে ব্যানারের স্থানে বা পাশের সাইড বারে বা পোস্টের মাঝে কত গুলি লিঙ্ক থাকে আর তাতে লেখা থাকে “ads by Google”। এখন হয়ত আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে “ads by Google” বা এই “গুগল অ্যাডসেন্স কি” । হ্যা এই অ্যাডস গুলিই গুগল অ্যাডসেন্স । আপনি হয়ত জেনে থাকবেন যে আপনি যদি ঐ সব লিংকে ক্লিক করেন তবে ওই সাইটের মালিকের গুগল আডসেন্স এ্যাকাউন্টে কিছু টাকা জমা হবে। আর তাই এখন হয়ত এও জানতে চাইবেন যে কিভাবে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে টাকা আয় করা যায়।

আসলে গুগল অ্যাডসেন্স হচ্ছে গুগল পরিচালিত একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন। এটি মূলত একটি লাভ-অংশিদারী প্রকল্প যার মাধ্যমে গুগল ও তার ব্যবহারকারী তাদের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রচার করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগের মালিক কিছু শর্তসাপেক্ষে তার সাইটে গুগল নির্ধারিত বিজ্ঞাপণ দেখানর বা স্থাপনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। আজকের অনলাইন বিশ্বে এই বিষয়টি ব্যপক সাড়া জাগিয়েছে। বিজ্ঞাপণদাতাদের নিকট থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৫০ থেকে ৬০ ভাগ টাকাই ওয়েবসাইটের মালিকদের মাঝে ভাগাভাগি করে নেয়।আর গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে যেকেউ অর্থ আয় করতে পারে। প্রচুর বাংলাদেশী ব্লগার এবং ওয়েবসাইটের মালিক গুগল অ্যডসেন্সের বিজ্ঞাপণ প্রদর্শণের মাধ্যমে বর্তমানে অর্থ আয় করছেন।

গুগল অ্যাডসেন্স কেন:

গুগল অ্যাডসেন্স বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতি। এখানে অনলাইনে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মার্কেটিং করা হয়। এ মার্কেটিং পদ্ধতির ওপর আস্থা রাখা যায় বেশ সহজেই। একটি ওয়েবসাইট থাকলেই গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে উপার্জন করা যায়। গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে উপার্জন করতে গুগল অ্যাডসেন্স কর্তৃপক্ষকে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা প্রদান করে কাজ শুরু করতে হয় না। আসলে গুগল অ্যাডসেন্স একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকশন, যা তৈরি করেছে গুগল। এ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমেই ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষ পদ্ধতিতে কার্যকর থাকে।

গুগল অ্যাডসেন্সের শুরুটা:

আজ থেকে ১৪ বছর আগে ২০০৩ সালের ১৮ জুন গুগল অ্যাডসেন্সের কাজ শুরু হয়। প্রায় শুরুর দিক থেকেই বাংলাদেশের অনেকেই গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে আসছে। উপার্জনের টাকাও বাংলাদেশে বসেই তারা নিজেদের অ্যাকাউন্ট থেকে তুলতে পারছে। এদিকে যতই দিন যাচ্ছে গুগল অ্যাডসেন্সের নীতিমালা ততই উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে। এ সময়ে এসে দেখা গেল, প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ওয়েবসাইট গুগল অ্যাডসেন্সের সঙ্গে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে যাচ্ছে।

প্রথমেই বলে রাখি গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আপনি যদি ইনকাম করতে চাইলে আপনার একটি নিজের ওয়েব সাইট থাকা দরকার, তবে না থাকলেও যে আয় করা সম্ভব না তাও কিন্তু নয় । এই সাইট টা ফ্রি হলেও চলবে।

গুগল অ্যাডসেন্সে একাউন্ট কি ভাবে করতে হয়:

গুগল অ্যাডসেন্স একাউন্ট এর জন্য প্রথমেই আপনার একটি জিমেইল একাউন্ট থাকতে হবে। গুগল অ্যাডসেন্স একাউন্ট তৈ্রী করতে উপায় নিন্মে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করা হল ।

১.যদি আপনার জিমেইলে কোন একাউন্ট না থাকে থাকে এখনি একটা একাউন্ট করে নিন । যা সম্পূর্ন ফ্রি ।এখন লগ অন করুন ।

http://www.google.com/adsense এ গিয়ে sing up বাটনে ক্লিক করুন ।

৩.তার পর একটি ফরম আসবে । ফরম এ আপনার ওয়েব সাইট এর নাম , তারপর কোন ভাষায় আপনার ওয়েব সাইট , আপনার Account type ,আপনার Country , আপনার নাম (তবে মনে রাখবেন যেনামে আপনার ব্যাংকের একাউন্ট সেই নাম দিবেন না হলে পরে ঝামেলা হবে) , আপনার Street Address , City/Town , এখন কোথায় থাকেন ইত্যাদি ।ফর্মটি ঠিকভাবে পুরন করে সাবমিট ইনফর্মেশন বাটনে ক্লিক করুন।

আপাতত আপনার কাজ শেষ ।এখন গুগলের একজন ইঞ্জিনিয়ার আপনার রিকোয়স্ট ভ্যারিফাই করবে , আর যদি সব কিছু ঠিক থাকে তবে আপনার একাউন্ট এক্টিভ হবে । তারপরে আপনার সাইটে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আপনিও আয় করতে পারবেন ।

গুগল অ্যাডসেন্সে কেমন উপার্জন করা যায়:

সিপিসি কিংবা কস্ট পার ক্লিক পদ্ধতিতে গুগল অ্যাডসেন্স নির্ধারণ করে দেবে যে আপনার ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্সের বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনি কত উপার্জন করবেন। এ পদ্ধতিতে ওয়েব পেজে রাখা বিজ্ঞাপনের ওপর ক্লিক পড়লেই নির্দিষ্ট অঙ্কের ডলার কিংবা সেন্ট আপনার অ্যাকাউন্টে চলে আসবে। তবে বিজ্ঞাপনের ওপর একটি ক্লিক পড়লে আপনি কত টাকা পাবেন, তা নির্ভর করবে সিটিআর কিংবা আপনার ওয়েব পেজের ক্লিক থ্রো রেটের ওপর।

 এবার পুরো বিষয়টি সহজ করার জন্য একটি উদাহরণে যেতে পারি। ধরে নিন, আপনার একটি ওয়েব পেজে আপনি একটি গুগল অ্যাডসেন্সের বিজ্ঞাপন দেওয়ার অনুমতি পেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছেনও। এবার আপনার ক্লিক থ্রো রেট ১% হওয়ায় প্রতিদিন পেজটি ৪০০ বার দেখা হয় এবং বিজ্ঞাপনের মধ্যে ৪টি ক্লিক পড়ে। এতে করে প্রতি ক্লিকে .২৫ সেন্ট করে আপনার আয় হয় ১ ডলার। এখানে আপনি প্রতি ক্লিকে .২৫ সেন্টের বেশি পাবেন তখনই যখন আপনার পেজটি প্রতিদিন ৪০০ বার দেখার সময় বিজ্ঞাপনের ওপর ৪টি ক্লিকের বেশি পড়বে কিংবা ক্লিক থ্রো রেট ১% থেকে বেড়ে যাবে।

 এ হিসাবে আপনি যদি দেখেন, ১০ গুণ বেড়ে গিয়ে উক্ত পেজ প্রতিদিন ৪০০০ বার দেখা হচ্ছে, তাহলে দেখার সময় বিজ্ঞাপনের ওপর ৪০টি ক্লিকের কারণে প্রতিদিন আপনার উপার্জন হবে ১০ ডলার। একইভাবে আরও ১০ গুণ বেড়ে পেজটি প্রতিদিন যদি ৪০,০০০ বার দেখা হয় এবং বিজ্ঞাপনটির ওপর ৪০০ ক্লিক পড়ে, তাহলে আপনার এক দিনের উপার্জন হবে ১০০ ডলার। সবশেষে এ বলা যায়, এ হিসাবে আপনার সিটিআর কিংবা ক্লিক থ্রো রেট ১% ঠিক রেখে যদি পেজটি দেখার সংখ্যা বেড়ে যায় এবং একই অনুপাতে বিজ্ঞাপনের ওপর ক্লিকের সংখ্যা বেড়ে যায়, তাহলে আপনার প্রতিদিনের উপার্জনও বেড়ে যাবে।

এবার আসুন, আপনাকে আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য দেওয়া যাক। আপনি মনে করছেন, আপনার ওয়েব পেজটিতে প্রতিদিন ভিজিটর ভালোই আসছে এবং আগ্রহও দেখাচ্ছে। কিন্তু পেজের মধ্যে রাখার গুগল অ্যাডসেন্সের বিজ্ঞাপনটির ওপর ক্লিক করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাই গুগল অ্যাডসেন্সের উপার্জন করা আপনার জন্য সত্যই কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। না, আপনাকে দুশ্চিন্তা করতে হবে না। গুগল অ্যাডসেন্স এখানে ব্যবস্থা রেখেছে। আপনি এখন সিপিএম অর্থাত্ কস্ট পার ইমপ্রেশন পদ্ধতিতে উপার্জন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্র আপনার উক্ত ওয়েব পেজ দেখার ব্যাপারে যদি প্রতিদিন ১০০০ বার আগ্রহ দেখানো হয় অর্থাত্ ১০০০ বার পেজটি শুধু ভিজিট করা হয়, তাহলেই কোনো প্রকার বিজ্ঞাপনের ওপর ক্লিক ছাড়াই আপনি ১ ডলার উপার্জন করতে পারবেন। এভাবে মাসে আপনি ৩০ ডলার উপার্জন করতে পারবেন। আর যদি ভিজিটর ৪০,০০০ হয়, তাহলে আপনি প্রতিদিন ৪ ডলার করে মাসে ১২০ ডলার উপার্জন করতে পারবেন।

গুগল অ্যাডসেন্সের উপার্জিত টাকা পাওয়া:

গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ আপনার গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টে জমা হতে থাকবে। তা আপনি আপনার সে অ্যাকাউন্টে গেলেই দেখতে পারবেন। তবে এ উপার্জন বাংলাদেশে আপনার কাছে আসবে চেকের মাধ্যমে কিংবা আপনার বাংলাদেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থের পরিমাণ যখন ১০০ ডলার কিংবা তার বেশি হয়ে যাবে, তখনই আপনি তা আপনার দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসতে পারবেন। এখানে বাড়তি ভয়ের কিছু নেই। বিষয়টি খুবই সহজ। গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টে মাই অপশনে আপনার দেশের ব্যাংকের নাম ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে দিতে হবে শুধু। তারপর উইথড্রো অর্ডার করবেন। অর্ডার করার ১৫ দিনের মধ্যেই আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা চলে আসবে।

অবশেষে বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্স:

প্রথমেই বলেছি, গুগল অ্যাডসেন্স শুরু করার পর থেকে যতই দিন যাচ্ছে ততই তাদের নীতিমালা উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে। এরই অংশ হিসাবে এখন আপনি গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে উপার্জন করতে ইংরেজি ভাষায় ওয়েবসাইট তৈরিতে বাধ্য নন। বাংলা ভাষায় তৈরি করা ওয়েবসাইট নিয়েই আপনি গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে উপার্জন করতে পারবেন। এ সুযোগ আমরা পেয়েছি গত বছর। তবে হ্যাঁ, জেনে রাখবেন বাংলা ভাষায় তৈরি করা ওয়েবসাইটে আপনি শুধু বাংলাদেশিদেরই ভিজিটর হিসেবে প্রত্যাশা করতে পারবেন। সব দেশের মানুষকে ভিজিটর হিসেবে প্রত্যাশা করতে পারবেন না। বিষয়টি ঘুরিয়েও বলা যায়, যা আপনার ভালো লাগবে। আসলে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ওয়েবসাইট তৈরিও যেমন সুবিধা আবার তুলনামূলকভাবে অন্য দেশের ভিজিটর পাওয়ার চেয়ে দেশি ভিজিটর পাওয়াটাই সহজ।
পোষ্টটি কেমন লাগলো জানাবেন।ধন্যবাদ সবাইকে।

Post a Comment

0 Comments