আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি। 

আজকে আমি আপনাদের জন্য কিছু ইসলামিক আলোচনা নিয়ে এসেছি।আশা করি সকলের ভালো লাগবে।


প্রত্যেক মানুষ মরনশীল। যার জন্ম আছে তার মৃত্যু আছে।আমাদের ইসলাম ধর্মে পাপিদের মৃত্যুর পর রয়েছে কঠিন শাস্তি।মৃত্যুর পর মানুষকে কবর দেওয়া হয়।  কবরের জীবন সম্পর্কে আজকে আলোচনা করব।

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন: সালাফে সালেহীন ইমামদের মতামত হল, যখন কোন ব্যক্তি মারা যায় তখন সে সূখে থাকে অথবা শাস্তি ভোগ করতে থাকে। আর এ সূখ বা শাস্তি তার আত্মা ও দেহ উভয়ে ভোগ করে থাকে। কখনো আত্মা দেহে আসে। তখন দেহ ও আত্মা উভয়ে একসাথে সুখ বা শাস্তি ভোগ করে। অত:পর কেয়ামতের দিন আত্মা শরীরের সাথে একত্র হয়ে কবর থেকে উত্থিত হবে। (মজমু আল ফাতাওয়া)



 ইমাম নববী রহ. বলেন: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারীরা বিশ্বাস করেন যে কবরের শাস্তি একটি সত্য বিষয়। আর এ বিষয়ে কুরআন ও হাদীসের বহু সংখ্যক প্রমাণ রয়েছে। যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:

আগুন, তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যায় তার সামনে উপস্থিত করা হয়। (সুরা আল-মুমিমঃআয়াত ৪৬)



 এ বিষয়ে যথেষ্ঠ পরিমাণে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আর আকল-বুদ্ধি এটাকে অসম্ভব মনে করে না। যদি কারো আকল বা জ্ঞান এটাকে অসম্ভব মনে করে তবে তাকে বুঝতে হবে, এ বিষয়ে যখন কুরআন ও হাদীসের সিদ্ধান্ত এসে গেছে তখন এটা মান্য করা অবশ্য কর্তব্য। এটা আমাদের জ্ঞানের পরিধির ভিতরে হোক বা বাহিরে, তাতে কিছু আসে যায় না। 



আসল কথা হল, কবরের শাস্তির বিশ্বাসটি আহলে সুন্নাতের আকীদা-বিশ্বাসের অন্তর্গত। খারেজী, অধিকাংশ মুতাযিলা ও মুরজিয়াদের একটি দল কবরের শাস্তির বিষয়টি অস্বীকার করে। তিনি আরো বলেন: যদি মৃত ব্যক্তির শরীর ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বা পুড়ে ছাই হয়ে যায় কিংবা কোন জীব-জন্তুর পেটে চলে যায় তাহলেও কবরের শাস্তি ভোগ করা সম্ভব। 



যদি বলা হয়, আমরা দেখি মৃত ব্যক্তিকে কবরে যেভাবে রাখা হয়েছে সেভাবেই আছে। কখন তাকে বসানো হল আর কিভাবে তাকে শাস্তি দেয়া হল?

 এর উত্তরে বলা যায়, আমরা অনুভব না করলেও এটা ঘটা সম্ভব। যেমন আমাদের পাশে কোন ব্যক্তি নিদ্রায় থাকে আর সে স্বপ্নে কত খারাপ অবস্থা ভোগ করতে থাকে বা কত সুখ ভোগ করতে থাকে। অথচ আমরা তার পাশে থেকেও তার কোন কষ্ট বা সুখ অনুভব করি না বা দেখি না।


 এমনিভাবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে জিবরীল অহী নিয়ে আসতো। আর রাসূল কষ্ট করে সে অহী ধারন করতেন কিন্তু পাশে উপস্থিত সাহাবীগণ তা টের পেতেন না। (শরহু মুসলিম)


তো আজকে এই পর্যন্তই।সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।আল্লাহ হাফেজ।

Post a Comment

Previous Post Next Post