An Amazing Story Of a Thief Imam রমজান মাস তো চলে যাচ্ছে।আমরা কুরআন পড়া কি তবে ছেড়ে দিব?একজন ইমামের চুরির একটি সুন্দর ইসলামিক কাহিনী

আসসালামু আলাইকুম।আশা করি সবাই ভালো আছেন।আমিও ভালো আছি।

আজকে আমি আপনাদের জন্য একটি শিক্ষণীয় ঘটনা নিয়ে এসেছি।



ছোট্ট একটা গ্রামের একটি মসজিদে একজন যোগ্য ইমাম নিযুক্ত করা হয়। গ্রামবাসী নির্ধারণ করে যে, রমাদান মাসে ইমাম সাহেব একেকদিন একেক বাসায় ইফতার করবেন। সেই হিসাবে একদিন একটি বাসায় ইফতারের দাওয়াতে ইমাম সাহেব অপেক্ষায় ছিলেন। তারা মোটামুটি দরিদ্র পরিবার ছিলো। ভেতরের ঘরে স্বামী-স্ত্রী ইফতারের খাবার তৈরি করছিলেন।

ইফতার শেষে ইমাম সাহেব বিদায় জানিয়ে চলে যান এবং সাথে সাথে সেই স্বামী-স্ত্রী বুঝতে পারেন যে, তাদের ঘরে কিছু টাকা ছিলো যা পাওয়া যাচ্ছে না। ইমাম সাহেব যেখানে বসে ছিলেন ঠিক তার পাশেই কিছু টাকা ছিলো। ইমাম ছাড়া তাদের বাসায় আর কেউ আসেনি। "ইমাম সাহেব টাকা চুরি করেছেন।" - এই কথাটা ভাবতেই তারা উভয়েই লজ্জায় অবাক হয়ে যান!


খুব স্বাভাবিক, এই ঘটনার পর থেকে তারা ইমাম সাহেবকে অপছন্দ করা শুরু করেন। টাকা চুরির ঘটনা তারা কাউকে বলতেও পারছিলেন না। এরপর থেকে ভদ্রলোক ইমাম সাহেবকে এড়িয়ে চলতেন, সালাম দিতেন না। মসজিদে গেলেও, দুরে সলাত আদায় করে চলে যেতেন। তাদের অন্তরে উক্ত ইমাম সাহেবের প্রতি জন্মেছিলো ঘৃণা।





এভাবে চলতে চলতে প্রায় এক বছর কেটে যায়। আবার রমাদান মাস আসে। গতবারের মতো আবারও সিদ্ধান্ত হয় যে, ইমাম সাহেব একেকটি বাসায় একেক দিন ইফতার করবেন। সেই হিসাবে কোনো একদিন সেই একই বাসাতে ইমাম সাহেবের ইফতারের দাওয়াতের তারিখ পড়ে। কিন্তু সেই স্বামী-স্ত্রী এটা মেনে নিতে পারছিলেন না যে, তাদের বাসাতেই একজন চোর ইমামকে সম্মানের সাথে ইফতার খাওয়াতে হবে!


অবশেষে স্ত্রী তার স্বামীকে বললেন, "হয়তো তখন ইমাম সাহেবের টাকার অনেক দরকার ছিলো তাই উনি নিয়েছেন। থাক তুমি ভুলে যাও, তাকে ক্ষমা করে দাও।" স্ত্রীর কথায় স্বামী মেনে নিলেন এবং আবারও ইফতারের আয়োজন করলেন।


কিন্তু এবার ইমাম সাহেব স্পষ্ট বুঝতে পারছিলেন যে, ভদ্রলোক কোনো বিষয়ে হয়তো স্বস্তি পাচ্ছে না। ইফতার শেষে তিনি জানতে চাইলেন, "কোনো সমস্যা?" গৃহকর্তা আর থাকতে না পেরে বলেই ফেললেন গত বছরের টাকা চুরির কথা। গৃহকর্তা ইমামকে বললেন, "আপনি এই ঘরে একা বসে ছিলেন আর আমরা ভেতরে ইফতার বানাচ্ছিলাম।



সেদিন আর কেউ বাসায় আসেনি। ইফতার করে আপনি চলে গেলেন এবং তারপর থেকেই আমরা টাকা পাচ্ছিলাম না।" তিনি আরো বললেন যে, সেই টাকা চুরির পর থেকে তারা তাকে সম্মানের চোখে দেখতে পারছে না।

ইমাম সাহেব সব শুনছিলেন এবং তার চোখ ছলছল করছিলো। ইমাম প্রশ্ন করলেন, "কেনো আপনি আমাকে এতদিন কথাটা বললেন না?" গৃহকর্তা বললেন, "কিভাবে বলি? আমরা তো লজ্জায় কাউকে কিছুই বলতে পারিনি!।" গৃহকর্তা প্রশ্ন করলেন "আপনি কি আমাদের টাকা নিয়েছেন?" ইমাম সাহেব কাঁদতে কাঁদতে বললেন, "হ্যাঁ আমি সেই টাকা নিয়েছিলাম।" 






ইমাম সাহেবের মুখে কথাটুকু শুনতেই স্বামী-স্ত্রী উভয়েই অবাক হয়ে যান!

ইমাম সাহেব আরো বললেন, "আপনারা যখন ভেতরের ঘরে ইফতার আয়োজন করছিলেন, আমি একা বসেছিলাম। আমি দেখেছি আপনাদের টাকাগুলি ঐখানে ছিলো। হঠাৎ ঐ জানালা দিয়ে বাতাস আসে আর টাকাগুলি উড়ে এদিক সেদিক এলোমেলো হয়ে যায়। টাকাগুলি কুড়িয়ে হাতে রাখি যেনো আপনি আসা মাত্রই দিতে পারি। কিন্তু আমি দেখলাম সামনেই ঐ কুরআনটা ছিলো, যেটা এখনও আছে এবং ঐ কুরআনের ভেতরে টাকাগুলি রেখে দেই।"


তারপর ইমাম সাহেব কাঁদতে কাঁদতে বললেন, "আমি এ জন্য কাঁদছি না যে, আমাকে টাকা চোর বলা হয়েছে, বরং আমি এ জন্য কাঁদছি যে, বিগত পুরো একটি বছরেও আপনাদের দু'জনের কেউ একটি বারও কুরআনটা খুলে পড়েন নাই। আপনারা কুরআনকে ভুলে গেছেন, কুরআন পড়া ছেড়ে দিয়েছেন।" তিনি আরো বললেন, "আপনাদের কোনো একজন কুরআনটা অন্তত একবার পড়লেই সেই টাকা পেয়ে যেতেন।"


বন্ধুরা, আমরা যারা গল্পটা পড়লাম বা শুনলাম, রমাদান মাস তো চলে যাচ্ছে, আগামী একটি বছর আমাদের অবস্থা কেমন যাবে? কুরআনের সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন থাকবে?


আল্লাহ আমাদের সকলকে কুরআন বুঝে শুনে সারাবছর পড়ার তৌফিক দান করুন!আমীন।

Post a Comment

0 Comments