1922 Full Movie Download Link With Review

আশা করি সবাই ভালো আছেন।আমিও ভালো আছি।

রিভিউ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস অন '১৯২২' (উইথ শর্ট এক্সপ্লেনেশন)

Caution:- উক্ত আর্টিকেলে রিভিউর সেকশন এর পর অ্যানালাইসিস সেকশনে স্পয়লার থাকছে। তাই সবার আগে ফিল্মটি দেখা উচিৎ, তারপর অ্যানালাইসিস সেকশন পড়ুন। তাছাড়া এটি কোনো পিউর সাস্পেন্স থ্রিলার জনরার ফিল্ম নয়। কোনো প্রকার টুইস্ট ও পাচ্ছেন না। তাই ফিল্ম হতে সাস্পেন্স, টুইস্ট এসবের আশা রাখলে এড়িয়ে যেতে পারেন। এই ফিল্মের মূল আকর্ষনীয় বিষয়টাই এর স্টোরি লাইন-আপ এবং মেকিং। স্টোরি নির্ভর ফিল্ম পছন্দ না হলে, এটি না দেখার অনুরোধ থাকবে।


স্টিফেন কিং এর নভেল '১৯২২' এর উপর আধারিত ২০১৭ সালে রিলিজ হয়েছিলো '১৯২২' নামক ড্রামা, ক্রাইম জনরার ফিল্মটি। সকলের নিকট তেমন একটা পরিচিতি না পেলেও ক্রিটিকসদের নিকট হিউজ পরিমান পজিটিভ রিভিউ পেয়ে রোটেন টম্যাটোজ এ প্রায় ৯১% ফ্রেশ পার্সেন্টেজ নিয়ে সফল। স্টোরি যেহেতু স্টিফেন কিং এর গল্পের উপর বেজড, তাই নিঃসন্দেহে গল্পের ধারার উপর আস্থা রাখা যেতেই পারে।





মুভিঃ- 1922 

🎲 জনরাঃ- ড্রামা, ক্রাইম
🔸ইন্ডাস্ট্রিঃ- হলিউড

🏷 আইএমডিবিঃ- ৬.৩/১০
🍅 রোটেন-টম্যাটোজঃ- ৯১%
🔳 পার্সোনাল রেটঃ- ৮/১০


শর্ট রিভিউঃ-

সুদূর ক্ষেতখামার আর চারদিকের এক নির্জন এলাকায় বসবাস জেমস ফ্যামিলির। পরিবারের কর্তা উইলফ্রেড জেমস, তার স্ত্রী আরলেট এবং তার ছেলে হেনরি। উইলফ্রেড তার ৮০ একর জমিতে চাষাবাদ করে বেশ সুখী। আর তার স্ত্রীর রয়েছে ১০০ একর জমি যা সে পৈতৃকসূত্রে পেয়েছে। আরলেট এই নির্জন জায়গায় থেকে থেকে বিরক্ত হয়ে গিয়েছে। সে চায় মোট ১৮০ একর জমি বিক্রি করে শহরে চলে গিয়ে সবকিছু নতুন করে শুরু করতে। কিন্তু উইলফ্রেড তার চাষবাস নিয়েই সুখী।


 এতে তার স্ত্রী ডিভোর্স চাচ্ছে। উইলফ্রেড যখন দেখলো ডিভোর্স হলে তো এসব সম্পত্তি ভাগ হয়ে যাবে। এতে তার কিছুই হবেনা। ফলে সে তার স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সাথে উস্কিয়ে সে তার ছেলেকেও তার দলে টেনে নেয়। আর শেষমেশ হত্যা করে ফেলে।


গল্পটির ক্রাইম সিন বেশ বেদনাদায়ক হলেও পরবর্তীতে তারা দুজন বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছিলো। কিন্তু, উইলফ্রেড মাঝেমধ্যেই তার মৃত স্ত্রীকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় দেখতে পায়। আর স্ত্রীর সাথে সাথে চারপাশে ইঁদুর ও দেখতে পায় অজস্র। এরপর ই ফিল্মে একটা ডার্ক থিম এর আবির্ভাব ঘটে। কেমন যেনো একটা ক্রাইম সিন বার বার রিকল হতে থাকে। উইলফ্রেড বার বার তার স্ত্রীকে দেখতে পায় আর তার অবস্থা দিন দিন অবনতি হতে থাকে।


মূলত ড্রামাটিক রূপে স্টোরিটি সোজাসুজি এভাবেই এগোয়। প্যাচ-গোচ ছাড়া সহজভাবে স্টোরিটা বিল্ড-আপ হয়েছে ফিল্মে। এর বাহিরে ফিল্মে তেমন কিছু নেই। তবে, ফিল্মের এই সাধারণ বিষয়টাতেও অ্যানালাইসিস করার মতো কিঞ্চিৎ বিষয় বিদ্যমান। অর্থ্যাৎ ফিল্মে লক্ষ্যনীয় দিক।


স্পয়লার এলার্ট। ফিল্ম না দেখে থাকলে এই সেকশন এড়িয়ে যান।


- মোটামুটি সরল গতিতে এগিয়ে যাওয়া উইলফ্রেড এর এই জীবনে ধ্বস নেমেছিলো তার স্ত্রীকে হত্যার পর। আমরা এই ফিল্মে তেমন হরর কিছু না দেখতে পেলেও একটা ছমছমে ডার্ক থিম অবশ্যই লক্ষ্য করবো। ফিল্মে বহুবার উইলফ্রেড তার স্ত্রীকে দেখতে পায়, তার স্ত্রী তাহার নিকট এসে কানে কানে তাদের ছেলে হেনরির ব্যাপারে সকল তথ্য বলে যায়, এই বিষয়টিও অনেকের মনে কনফিউশন সৃষ্টি করতে পারে।


A.প্রথমত আলরেট কে দেখতে পাওয়া ইমেজিনেশন, এটি তো সবাই ই বুঝেছে। কিন্তু, বার বার কেনো তার স্ত্রীকে দেখেছে, সেটিও একটি ভাব্বার বিষয়। আমার মতে উক্ত ঘটনাটি তখনি ঘটেছে ফিল্মে, যখন উইলফ্রেড ক্লান্ত, মাতাল বা ভাবুক থাকে। তার স্ত্রীকে যখনি দেখে, তখনি সে বুঝতে পারে, এটা তার জীবনের মস্ত বড় ভুল। কারণ, মানুষ ভাবুক অবস্থাতেই তার জীবনের সবচেয়ে বাজে বিষয়গুলো উপলব্ধি করে। উইলফ্রেড এর মানসিক রোগ রয়েছে।


 যখন উইলফ্রেড তার স্ত্রীকে মারার পরিকল্পনা করছিলো, তখন সে বলছিলো "প্রতিটা মানুষের ভেতরেই কোনো এক আগন্তুক লুকিয়ে থাকে।" উইলফ্রেড তার ফার্মিং লাইফে হ্যাপি। যখনি তার স্ত্রীর সাথে এ নিয়ে বিবাদ হয়, প্রতিবার ই তার আরেকটি সত্তা বাইরে আসতে চায়। উইলফ্রেড ও তার সেই সত্তার সাথে পরিচিত। তাই তার স্ত্রীকে মারার পরিকল্পনাতে তার কোনো দ্বিধা হয়নি। কারণ, ইটস অল অ্যাবাউট সেটিসফ্যাকশন। কিন্তু, যতবার সে তার স্ত্রীকে দেখতে পায়, ততোবার ই সে তার ওই সত্তার দ্বারা কৃত সেই পাপ কাজ উপলব্ধি করে।


B.ফিল্মের দুই তৃতীয়াংশে যখন তার মৃত স্ত্রী তাকে এসে হেনরির ব্যাপারে সকল তথ্য বললো, তখনো এটাই প্রমাণ হয় সে, 'উইলফ্রেড তার দ্বিতীয় সত্তাকে ওই কৃতকর্মের ফলে ভোগান্ত হেনরি আর তার অবস্থাটা জানাচ্ছে আর অনুতপ্ত হচ্ছে'। ফিল্মে উইলফ্রেডকে বই পড়তে দেখা যায় বেশ কয়েকবার। তাই ধরে নেয়া যেতেই পারে সে নিউজপেপারে সকল নিউজ পড়েছিলো। কিন্তু, সেটাকে সে তার স্ত্রীর ইমেজিনেশন হিসেবে তার অপর সত্তাকে বলেছে সেসব।


 আর এন্ডিং এও আমরা হেনরি আর তার গার্লফ্রেন্ড, আরলেট কে মৃত অবস্থায় ইমেজিনেশন হিসেবে দেখতে পাই যারা কিনা উইলফ্রেড কে আত্মহত্যার জন্য উস্কাচ্ছে। মূলত ফিল্মের ইঁদুরগুলো ও উইলফ্রেড এর ইমেজিনেশন। উইলফ্রেড তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত। যার ফলে বার বার সে ইঁদুর দেখে আর সেই কৃতকর্মের কথা ভেবে কষ্ট পায়। 


সবশেষে আত্মহত্যা করে। সেই সাথে মৃত্যুর আগে লিখে গিয়েছে তার পাপ কাজের কথা। কারণ, একজন অপরাধীর নিকট মৃত্যু ই সবচেয়ে বড় সেটিসফ্যাকশন। আর পুরো ফিল্মকে ব্যাক্ত করতে একটি বাক্যই যথেষ্ট "There was another way" হয়তো অন্য কোনো পথ ছিলো। তাহলে কেনো এতোকিছু?


উক্ত ফিল্মের ড্রামার ফলেই হয়তো এটি পিউর একটি ড্রামাটিক ন্যাচারাল ক্রাইম প্লট হিসেবেও স্টোরি নির্ভর ফিল্মপ্রেমিদের নিকট আকর্ষণ করবে। মেটিং আর ডিরেকশন ও অনেকসময় স্টোরিকে আরো ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলে, যার উদাহরণ এই ফিল্মটি।


Download Link


480p Link: Click here

720p Link: Click Here

1080p Link: Click Here

Bangla subtitle: Click here


আজকে এই পর্যন্তই।সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।আল্লাহ হাফেজ।

Post a Comment

0 Comments