Is Freelancing Halal? ফ্রিল্যান্সিং করা কি হালাল?

 আসসালামু আলাইকুম।আশা করি সবাই ভালো আছেন।আমিও ভালো আছি।

আজকে আমি আপনাদের মাঝে আলোচনা করব ফ্রিল্যান্সিং করা হালাল কি না। তো চলুন শুরু করা যাক।

ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং হ'ল নামটি হ'ল ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংস্থার কাজের জন্য। এই বিশ্বে হাজার হাজার কাজ রয়েছে। তাদের কাছ থেকে, যদি আপনি কিছু শর্ত সাপেক্ষে হালাল কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেন তবে তা অবশ্যই হালাল।




ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের শর্তাবলী:

কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে ফ্রিল্যান্সিং করা এবং তার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা বৈধ। যথা:

  • ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে কাজটি হালাল হওয়া (হারাম না হওয়া)।
  •  দেশের প্রচলিত আইন পরিপন্থী না হওয়া।
  •  মানুষ, সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতি কারক না হওয়া।
  • কারো অধিকার খর্ব না করা। (যেমন: কপিরাইট লঙ্ঘন করা)।
  • আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সুদ, ঘুস বা দুর্নীতির আশ্রয় না নেয়া।
  •  মিথ্যা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও প্রতারণার আশ্রয় না নেয়া ইত্যাদি।

যদিও এগুলো অনলাইন-অফলাইন সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু অনলাইনে
আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ ক্ষেত্রে প্রতারণা ও অন্যায়-অপকর্মের সুযোগ বেশি থাকে।

সর্বদা হালাল-হারামের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে এবং হারাম ও সন্দেহপূর্ণ বিষয় থেকে দূরে থাতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
«إنَّ الحَلاَلَ بَيِّنٌ، وَإنَّ الحَرامَ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبَهَاتٌ لاَ يَعْلَمُهُنَّ كَثيرٌ مِنَ النَّاسِ، فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ، اسْتَبْرَأَ لِدِينهِ وَعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ في الحَرَامِ
‘‘অবশ্যই হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এ দুটির মাঝখানে রয়েছে কিছু সন্দেহপূর্ণ বস্তু; যা অনেক লোকেই জানে না। অতএব যে ব্যক্তি এই সন্দেহপূর্ণ বিষয় সমূহ হতে দূরে থাকবে, সে তার দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করবে এবং যে সন্দেহপূর্ণ বিষয়ে পতিত হবে সে হারামে পতিত হবে।” (সহীহুল বুখারী ৫২, ২০৫১, মুসলিম ১৫৯৯)

مَا أكَلَ أَحَدٌ طَعَاماً قَطُّ خَيْراً مِنْ أنْ يَأكُلَ مِنْ عَمَلِ يَدِه، وَإنَّ نَبيَّ الله دَاوُدَ عليه السلام كَانَ يَأكُلُ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ ». رواه البخاري

‘‘নিজের হাতের উপার্জন থেকে উত্তম খাবার কেউ কখনো খায় নি। আল্লাহর নবী দাউদ আলাইহিস সালাম নিজ হাতের উপার্জন থেকে খেতেন।’’(সহীহুল বুখারী ২০৭২, ইবনু মাজাহ ২১৩৮, আহমাদ ১৬৭২৯, ১৫৭৩৯)




সংক্ষেপে, কাজের উপর নির্ভর করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা কখনও কখনও আইনী এবং কখনও কখনও অবৈধ। যদি তা হয় তবে তা করা হারাম এবং এর থেকে অর্জিত অর্থও হারাম।

  1. গ্রাফিক্স ডিজাইন। গ্রাফিক্সে ডিজাইনে যদি কোন অশ্লীলতা না থাকে এবং পুরুষ-মহিলা বা অন্য কোনো প্রাণীর ছবি যুক্ত করা না করা হয় বা কপিরাইট কৃত কোন ছবি ব্যবহার না করা হয় তাহলে তা হালাল; অন্যথায় হারাম।
  2. ডেটা এন্ট্রি বা (লেখা)। এর বিরুদ্ধে কিছু না থাকলে আপত্তি নেই; নাহলে হারাম। উদাহরণস্বরূপ: কোনও লেখকের কপিরাইটযুক্ত বই থেকে অনুলিপি করা, নাস্তিক ও ইসলাম বিরোধী প্রচার লেখা, অবৈধ প্রেম এবং নোংরা-যৌন সম্পর্কে লেখা ইত্যাদি ইত্যাদি লিখে অনলাইনে অর্থোপার্জন করা হারাম।
  3. অনলাইন ভিত্তিক সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ/বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা। পণ্যটি যদি হালাল হয় তাহলে তা হালাল কিন্তু পণ্যটি হারাম হলে তা অবশ্যই হারাম। যেমন: মদ-নেশা, বিড়ি-সিগারেট, মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক, খাঁটি পণ্যের লেভেল লাগানো নকল পণ্য, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ পণ্য ইত্যাদি। এগুলো অনলাইনে বিক্রয় সেবা দিয়ে পয়সা কামানো হালাল নয়।

এভাবে হালাল-হারামের বিষয়টি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, SCO, নেটওয়ার্কিং ও তথ্যব্যবস্থা (ইনফরমেশন সিস্টেম), প্রশাসনিক সহায়তা, মাল্টিমিডিয়া, গ্রাহকসেবা (Customer Service) ইত্যাদি যতপ্রকার কাজ আছে সকল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
আল্লাহু আলাম।

মহান আল্লাহ আামাদেরকে বৈধ পন্থায় কাজ করে অর্থ উপর্জন করার এবং সকল প্রকার হারাম ও অসদুপায় অবলম্বন থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন।

Post a Comment

0 Comments